১০ দিন হা’সপাতাল চালান, তারপর আমাকে ফাঁ’সি দিন: বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন

আব্দুল মান্নান পল্টন, ময়মনসিংহ ব্যুরো- “সিরিয়াল নিতে ঘুষ ও আমা’র অবস্থান। আমাকে সৎ বলবেন না। আমি সৎ নই। কারণ আমা’র সব বিচারের রায় সমতার ভিত্তিতে হয়নি। আমি সব ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ হতে ব্যর্থ হয়েছি।

আমাকে ঘৃ’ণা করুন। এ জীবনের সঠিক সত্য কি বুঝতে পারিনি। আম’রা যেমন মানুষ তেমনই আমাদের সমাজ। আম’রা বন দেখতে গিয়ে পাতার দিকে তাকিয়ে বনের বিশালতা নিয়ে কখনোই ভাবি না।

আম’রা প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে বাস্তবতা ও নিরপে’ক্ষতা মেনে কথা বলিনা। আমাদের চাহিদা অনেক। কিন্তু সম্পদ, দক্ষতার ঘা’টতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেই না। পু’লিশ অফিসার বা যাদের হাতে ক্ষ’মতা বেশি তাদের বি’রুদ্ধে উচ্চবাচ্য করার সাহস রাখি না। শুধু পারি হাসপাতালের যে কোন ঘটনাকে অ’তি প্রতি’ক্রিয়া দেখিয়ে উপস্থাপন করতে। অ’ভিযোগ করার নিয়ম হা’সপাতালের সব জায়গায় লিখা আছে। ফেসবুকে মন্তব্যের মাধ্যমে যে জ্ঞান লাভ করছি তাতে মনে হয় সাবা’লক হইনি।

আমা’র অবস্থানে থেকে ১০ দিন থেকে হাসপাতাল চালান। তারপর আমাকে ফাঁ’সি দিন। মতামতের স্বাধীনতাকে অম’র্যাদাকর অবস্থায় নিয়ে যেয়ে হা’সপাতালের অগ্রযাত্রাকে ক্ষ’তিগ্রস্ত করবেন না। এটা করতে থাকলে ২০১৫ আগের চেয়ে ভ’য়াবহ দু’র্নীতি চলবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাস’পাতালে। আমি সীমাব’দ্ধতা ও প্রতিকুলতা নিয়েই ৪ বছর হাসপাতাল চালিয়ে আসছি। কোন সংস্থা শতভাগ সফল নয়, কারণ আম’রা মন ও কথায় এবং কাজে এক নই।

ভাল মন্দ মিলিয়ে চরম ধৈ’র্য্য নিয়ে এ চার বছর সং’গ্রাম করছি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি সাধারণ জনগণের সুচি’কিৎসার ব্যাপারে আমি শতভাগ ভালবাসা নিয়েই কাজ করি। সংস্থার ঐক্যের স্বা’র্থে অনেক কিছু নিয়ে কথা বলি না কারন আমাকে এদেরকে নিয়েই কাজ করতে হয়। আমি চাইলেও সব কিছু শতভাগ ঠিক হবে না। আমি গুণীজন না। বিবেকের কাছে আমি একজন ঘৃনীত মানুষ।”

চিকিৎসা সেবায় দেশের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহম্মেদ গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক এভাবেই ক্ষো’ভ নিয়ে কথাগুলো বলেছেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি আরেক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “১০০০ শয্যার হাসপাতালে ৩২০০ রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আউটডোর এ ২০০০ এর পরিবর্তে ৫০০০ জনকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক ক’ষ্ট হচ্ছে। ১৯৮৭ সাল থেকে আমি ডাক্তার। তারপর থেকেই আমা’র প্রে’ম হয়ে রো’গীদের সাথে। এখানে কোনো প্রাপ্তির প্রে’ম নেই। এই প্রে’ম শুধু দেয়া। এ পর্যন্ত বহু মানুষের জীবনে ভ্যালু বা কল্যাণ যোগ করতে পেরেছি স্রষ্টার দয়ায়।”

উল্লেখ্য, গত চার বছর পুর্বে হাসপাতালে যোগদান করেই দু’র্নীতিবাজ সিন্ডিক্যাটদের বি’রুদ্ধে ক্রসেড ঘো’ষণা করেছিলেন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহম্মেদ। অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েই সিমাহীন অনিয়ম, দু’র্নীতি বন্ধ করেছেন। উন্নত চি’কিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছেন। বেশ কয়েকজন দু’র্নীতিবাজ কর্মক’র্তা কর্মচারিদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছেন তিনি।

দীর্ঘ চারবছর সকল অ’পশক্তির সাথে আপোষহীন ল’ড়াই করেছেন। এক সময়ের দু’র্নীতির আখড়া হিসেবে কথিত হাসপাতালকে দেশের শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলেছেন ক্লিনম্যান খ্যত রো’গী দরদী এ পরিচালক। বাংলাদেশে সকল সরকারি ও প্রাইভেটঁ হাসপাতালগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উন্নত চিকিৎসাসেবায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু কিছু দু’র্নীতিবাজরা এক্যব’দ্ধ হয়ে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহম্মেদকে বদলি করতে কোটি টাকার ফান্ডও গঠন করে।

রোগী দরদী পরিচালক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ বদলির সংবাদে ও বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আট ঘাট বেধে মাঠে নামেন ময়মনসিংহের লক্ষ লক্ষ উত্তাল জনতা। বি’ক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারক লিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করে। সর্বশেষে ময়মনসিংহবাসীর অশুন্ঠ সম’র্থন ও দাবির পরিপে’ক্ষিতে পরিচালকের বদলির আদেশ প্র’ত্যাহার করতে বা’ধ্য হয় সরকার।

ফেইসবুকে, টুইটারে, বিশিষ্ট নাগরিক থেকে শুরু করে হাজার হাজার নানা পেশাজিবী মানুষ অ’ভিন্ন কন্ঠে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাজার হাজার মানুষের লিখেছেন ভ’য় পাবেননা স্যার, এগিয়ে যান আম’রা আছি আপনার পাশে। আবার অনেকেই লিখেছেন, আপনার মত ভাল মানুষের জন্য ময়মনসিংহবাসী জীবন দিতেও প্রস্তুত আছে।

এই হাসপাতালের ডাক্তার সামিউল নাসিমসহ বেশ কয়েকজন ডাক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পরিচালক স্যারের কথায় ধৈ’র্য্যসহকারে কাজ করে আম’রা পরিপূ’র্ণতা পেয়েছি। হাসপাতালেরও পরিপূর্ণ সাফল্য এসেছে।’

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *