পেটের কোথাও ব্যথা হচ্ছে? জেনে নিন কারণ!

পেটে ব্যথা করতেই পারে। কিন্তু সবসময় কি আপনার পেটের নির্দিষ্ট একটি স্থানেই ব্যথা করে? উঁহু! ব্যথাটা পেটে হলেও, একেকসময় আমাদের পেটের একেক স্থানে ব্যথা অনুভূত হয়। কিন্তু কেন? পেটের কোথায় ব্যথা হলে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে? চলুন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে নেওয়া যাক-

১। পেটের উপরিভাগে ব্যথা :পেটের উপরিভাগে সাধারণত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণেই ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যথা ছাড়াও উন্যান্য উপসর্গ, এই যেমন- পেটে ঢেউয়ের মতো অনুভূত হওয়া, ঢেকুর ওঠা ইত্যাদি সমস্যা হতে দেখা যায়।

সাধারণত, খুব দ্রুত খাবার খেলে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে এমনটা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনি অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং বেশি করে পানি পান করুন। খুব বেশি ব্যথা অনুভূত হলে ওষুধ সেবন করুন।

২। বুকের নিচের অংশে, পেটের ওপরের অংশে ব্যথাবোধ ও জ্বালাপোড়া করা :সাধারণত, বুকের জ্বালাপোড়ার কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। আঠালো খাবার, অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খাওয়ার কারণে এমনটা হয়ে থাকে। এছাড়াও, নির্দিষ্ট কিছু খাবারের কারণেও এমনটা হয়ে থাকে এবং মুখে এসিডিক এক রকমের স্বাদ পাওয়া যায়। এমনটা হলে সিগারেট, ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। একসাথে অনেক বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প খাবার খান। খুব বেশি আঁটসাঁট কাপড় পরা থেকে বিরত থাকুন।

৩। পেটের ওপরের অংশে প্রচণ্ড ব্যথা :

ব্যথার আরও অনেক কারণ থাকতে পারলেও, বুকের ওপরের অংশে এই প্রচণ্ড ব্যথার কারণ হিসেবে আলসারকেও দায়ী করা যায়। পাকস্থলীতে আক্ষরিক অর্থেই কোনো সমস্যা তৈরি হলে, অর্থ্যাৎ, পাকস্থলীর কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে সেক্ষেত্রে আলসার তৈরি হয়। আলসারের ক্ষেত্রে ব্যথা ছাড়াও ক্ষুধার অভাব, সর্দি, কালচে বা রক্তযুক্ত মল, হুট করে ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি হতে দেখা যায়। অতিরিক্ত ধূমপান, অ্যাসপিরিন, ইবুপ্রোফিন এবং অ্যালকোহল সেবনের কারণে এমনটা হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা মদ্যপান, অতিরিক্ত ওষুধ সেবন ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে এবং যথেষ্ট পরিমাণ স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৪। পেটের ভেতরে কাঁপা এবং বমিভাব হওয়া :

আপনার খাবার হজম করার স্থানটি যদি অনেক বেশি স্পর্শকাতর ও দূর্বল হয় তাহলে এমনটা হতে পারে। ইররিটেবল বাউল সিস্টেম নামেই এটি বেশি পরিচিত। এক্ষেত্রে মোট দুটো ব্যাপার হতে পারে। আপনার হজম ক্ষমতা অনেক দ্রুত কাজ করার ফলে ডায়রিয়া হতে পারে, আবার খুব ধীরগতিতে কাজ করার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এর পেছনে কোনটি মূল কারণ সেটা সম্পর্কে নিশ্চিন জানা না গেলেও চিকিৎসকেরা এক্ষেত্রে খাবারের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৫। ডায়রিয়া এবং পুরো পেটে ব্যথা বোধ করা :

আপনার পেটে যদি খুব তীক্ষ্ণ ব্যথা থাকে, সাথে ডায়রিয়া, সর্দি, বমিভাব, জ্বর এবং মাথাব্যথা থাকে তাহলে এর কারণ হিসেবে পাকস্থলীর ফ্লু কাজ করতে পারে। এক কথায় একে গ্যাস্ট্রোএনটিরিটিস বলা হয়।

সাধারণত, দূষিত পানি ও খাবার খাওয়ার ফলে এমনটা হয়ে থাকে। এটি থেকে দূরে থাকতে খাবার আগে হাত পরিষ্কার করে নিন। অন্যের ব্যবহার্য ব্যবহার করবেন না। করলেও ভালোভাবে পরিষ্কার করে তারপর ব্যবহার করুন।

৬। হালকা ব্যথা ও হজমে সমস্যা :

সাধারণত, ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্সের কারণে এমনটা হয়ে থাকে। মাথাব্যথা, অবসাদ, পেশী ও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা, মুখের আলসার ইত্যাদি কারণে এমনটা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ল্যাক্টোজ নেই এমন খাবার খাওয়া উচিত।

আপনার পেটব্যথার কারণ হয়তো খুব ভয়াবহ কিছু নয়, তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। অবহেলা না করে তাই ব্যথার কারণ খুঁজে বের করুন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিন। এতে করে বড় রকমের কোন সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারবেন আপনি। সূত্র : ব্রাইটসাইড

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *